বিকাশ অ্যাপই সঞ্চয়ের নতুন ঠিকানা, ৪ বছরে ৫০ লাখ ডিপিএস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:৫৩, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিকাশ। ছবি: সংগৃহীত
গ্রাহকদের আস্থা বাড়ায় সহজে সঞ্চয়ের সুযোগ চালু হওয়ার মাত্র চার বছরের মধ্যে বিকাশ অ্যাপ এখন গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অ্যাপটির মাধ্যমে দেশের চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে ৫০ লাখের বেশি ডিপিএস (মাসিক সঞ্চয় স্কিম)।
আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুব কম সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক সঞ্চয় হিসাব চালু হওয়া দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
বিকাশ জানায়, দিনে কিংবা রাতে—যেকোনো সময় গ্রাহক মাত্র ২৫০ টাকা মাসিক কিস্তি দিয়েই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খুলতে ও পরিচালনা করতে পারছেন। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে সঞ্চয় শুরুর এই সুযোগ গ্রাহকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
বিকাশের কর্মকর্তারা বলেন, আগে ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্র পূরণ, লাইনে দাঁড়ানো, ভেরিফিকেশনসহ নানা ধাপ পেরিয়ে সঞ্চয় হিসাব খুলতে হতো। এখন অ্যাপের ভেতরেই উপলক্ষ, মেয়াদ, কিস্তির পরিমাণসহ সব তথ্য বেছে নেওয়া যায়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে সঞ্চয় শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।
গ্রাহকরা বলছেন, আয়ের পরিমাণ কম হলেও ছোট ছোট কিস্তিতে সঞ্চয় রাখার সুযোগ তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সহায়তা করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নতুন চাকরিজীবী ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই ডিজিটাল সঞ্চয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের চারটি ব্যাংক—ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা পরিচালিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে আরও ব্যাংককে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, সঞ্চয়মুখী সমাজ গঠনে ডিজিটাল সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীও এখন সহজে সঞ্চয়ের সুযোগ পাচ্ছে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিকাশ মনে করছে, গ্রাহকের আস্থা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও নতুন ধরনের সঞ্চয় প্রোডাক্ট যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
