খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:৪২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:১১, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সমাজকাল
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া খেলাপি ঋণের চাপ আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, “খেলাপি ঋণ ছোটোখাটো কোনো সমস্যা নয়। দেশে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি ঋণ। বাকি দুই-তৃতীয়াংশের ওপর ভিত্তি করে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা চলছে—যা আর্থিক খাতের জন্য বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।”
গভর্নর জানান, নতুন ক্লাসিফিকেশন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, প্রতি প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, “দুই বছর আগেও ধারণা ছিল খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশের মতো। তখনকার সরকার ৮ শতাংশ বলেছিল। কিন্তু এখন বাস্তব চিত্র হলো খেলাপি ঋণ ইতোমধ্যে ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।”
গভর্নর মনে করেন, এই পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন,“দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে আরও বহুদিন এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। ধাপে ধাপে সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে। সম্পূর্ণ উত্তরণে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।”
খেলাপি ঋণের সংকট ঘনীভূত হলেও আমদানি কার্ড (এলসি) খুলতে ডলারের ঘাটতির কোনো সমস্যা নেই বলে আশ্বস্ত করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, “চলতি বছর রমজানে পণ্য আমদানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইতোমধ্যে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ঋণপত্র খোলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যথেষ্ট ডলার আছে।”
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট ও ভবিষ্যৎ উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর শৃঙ্খলাই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার একমাত্র পথ।
