ঢাকায় কেন সেঞ্চুরি হাঁকায় গ্রামের ৩০ টাকার সবজি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৪৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ঢাকায় সেঞ্চুরি হাঁকায় গ্রামের ৩০ টাকার সবজি। ছবি: সমাজকাল
শীত এসেছে, কিন্তু রাজধানীর সবজির বাজারে স্বস্তির কোনো ছোঁয়া নেই। প্রতি বছর এই সময়ে দাম কমার আশা থাকে, কিন্তু এবার মৌসুমী সবজির দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। গ্রামে যেখানে বেগুন বা ফুলকপি পাওয়া যায় ৩০ টাকায়, ঢাকায় সেই একই সবজি ১০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মূল কারণ,মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং লম্বা হাতবদলের চেইন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ক্রেতাদের হতাশা স্পষ্ট। নতুন শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও দামে কোনো কমতি নেই। কেউ সামান্য কিনে পুরো ব্যাগ খালি করছেন, কেউ কিনছেন কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় উৎপাদন কম, তাই সরবরাহও কম। তবে আরও এক মাস পর দাম কমতে পারে।
পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছেও দাম বাজারের চেয়ে ১৫–২০ টাকা বেশি, কারণ তারা পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। ফড়িয়ারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরও ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত খরচ ভোক্তার কাঁধে পড়ে।
মানিকগঞ্জের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, “লাভে ব্যাপারীরা, লোকসানে আমরা কৃষক। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে ক্ষেতে কাজ করি, কিন্তু বাজারের মুনাফা যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। বছরের পর বছর দাম বাড়ে, খরচ বাড়ে, কিন্তু কৃষকের হিস্যাটা একই থাকে।”
এক বস্তা সবজি কৃষকের ক্ষেত থেকে ভোক্তার ঝুড়িতে পৌঁছাতে যে পথ পাড়ি দেয় তা হলো, কৃষক, স্থানীয় ফড়িয়া, আড়ত, পাইকারি বিক্রেতা (ঢাকা), খুচরা ব্যবসায়ী, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা/দোকান, প্রতিটি ধাপেই কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা করে দাম বাড়ে। তাই গ্রামের ৩০ টাকা দামের সবজি ঢাকায় এসে সহজেই ১০০ টাকায় পৌঁছে যায়।
ফড়িয়া ও আড়তদারের সিন্ডিকেট, একাধিক হাতবদল, বৃষ্টির কারণে কম উৎপাদন, শহরে উচ্চ পরিবহন খরচ, ছোট পাইকারদের উপর চাপ, খুচরা বাজারে অতিরিক্ত লাভের হিসাব।
বছর যায়, শীত আসে-যায়, কিন্তু সবজি বিক্রির এই চক্র যেন এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কৃষক তার ন্যায্য দাম পান না, ভোক্তা ন্যায্য দামে কিনতে পারে না, কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফার হাসি একই থাকে। কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার পকেট, দুই দিক থেকেই ফায়দা লুটছে সিন্ডিকেটই।
