নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট
দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৪৮, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গ্রাফিক্স : সমাজকাল
দেশে নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন নিরাপদ খাদ্য আদালত।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের আবেদনের পর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি এই আদেশ দেন।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে একটি মামলা (২০/২০২৫) চলমান ছিল। তবে নতুন তদন্তে নেসলে বাংলাদেশ আমদানিকৃত কিট ক্যাট চকলেটই ল্যাব পরীক্ষায় মানহীন প্রমাণিত হয়েছে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ—উভয় প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই চকলেটে দুধের কঠিন অংশ থাকার কথা ১২–১৪ শতাংশ, পাওয়া গেছে মাত্র ৯.৩১ শতাংশ এবং দুগ্ধ চর্বির মান থাকার কথা ২.৫–৩.৫ শতাংশ, পাওয়া গেছে ১.২৩ শতাংশ।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, আমদানি নীতি অনুযায়ী বিএসটিআই-এর পরীক্ষণ সনদ ছাড়া কোনও খাদ্যপণ্য বাজারজাত করা যায় না। কিন্তু নেসলে বাংলাদেশ দুবাই ও ভারতে উৎপাদিত কিট ক্যাট বিএসটিআই ছাড়পত্র ছাড়াই আমদানি করে বাজারজাত করেছে— যা নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩–এর লঙ্ঘন।
গত ১০ নভেম্বর স্বপ্ন এসিআই লজিস্টিকস এবং ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই কিট ক্যাট চকলেট মানসম্মত নয় বলে প্রমাণ মিলে। ফলে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানও নোটিশের মুখে পড়ে।
আগের মামলার বিষয়ে নেসলে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রশ্নবিদ্ধ পণ্য তারা আমদানি করেনি। কিন্তু এবার নেসলের নিজস্ব আমদানিকৃত পণ্যে মানহীনতার প্রমাণ মেলায় তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
