নির্বাচনের বাজেট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: অর্থ উপদেষ্টা
প্রকাশ: ১৮:৪৫, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাজেট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের জরুরি প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীতে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
এসময় সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “তফসিল ঘোষণার পরও যদি জরুরি ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, তা মেটানো যাবে। নির্বাচন কমিশনের জরুরি কোনো চাহিদা হলে সেটিও আমরা পূরণ করতে পারবো।”
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হলে নিরাপত্তা, জনবল ও লজিস্টিক খাতে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। এ কারণে নির্বাচনী বাজেট পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “প্রথম প্রস্তাবে গণভোট ছিল না। কিন্তু এখন একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আসবে।”
নির্বাচন কমিশন তাদের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলনে গণভোটের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করেনি বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকাভুক্তকরণ কার্যক্রমেও ব্যয় বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশ মিশনগুলো প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে, কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সময় দিচ্ছেন—এ কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বাজেট চাইতে পারে। অর্থ বিভাগ এতে সহায়তা করবে।
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য সম্পর্কে সালেহউদ্দিন বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে কর্মতৎপরতা ও লজিস্টিক বিবেচনায় একই দিনে ভোট নেওয়াই বেশি যৌক্তিক।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বডিক্যাম কেনার বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব বরাদ্দ থেকেই স্বচ্ছতার সঙ্গে সরঞ্জাম কিনবে।
এসময় ৪০ হাজার ক্যামেরা কেনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদের জন্য গাড়ি কেনার প্রস্তাব বাতিল হয়েছে বলে জানান।
সম্প্রতি বিদায়ী মন্ত্রীদের জন্য ১০০টি নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব অর্থ বিভাগ বাতিল করেছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এগুলো অতিরিক্ত গাড়ি নয়; রিপ্লেসমেন্ট ইউনিট ছিল। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োজন না হওয়ায় প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, অভ্যন্তরীণ বাজেট পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়কে ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রাক্কলন দিতে বলা হয়েছে। ডিসেম্বরেই জাতীয় বাজেট সংশোধন করা হবে এবং জানুয়ারির মধ্যে পরবর্তী সরকারের জন্য নির্বাচন বাজেট প্রস্তুত রাখা হবে।
